কুড়িগ্রামে মিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মাথায় ১০ সেলাই
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে কাজের পাওনা বা কাজ না পাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে সোহরাব আলী মিস্ত্রি নামের এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রাতে ঘোগাদহ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা। মুমূর্ষু অবস্থায় বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার মাথায় ১০টি সেলাই পড়েছে।
আহত সোহরাব আলী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কাজলদহ কালাইপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ঘোগাদহ বাজার থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথে একই গ্রামের মনসার আলীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রেজাউল, এরশাদুল ও রিপন নামের তিন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
আক্রান্ত সোহরাবের চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আহতের মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার মাথায় অন্তত ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পেশাগত মিস্ত্রি কাজ পাওয়া এবং কাজের বণ্টন নিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে সোহরাবের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
আহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এখন তাদের মূল লক্ষ্য সোহরাব আলীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে এই গুপ্ত সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার সাধারণ মানুষও এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি তারা মৌখিকভাবে অবগত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে