সর্বশেষ

মতামত

ট্রাম্পের ‘পৃথিবীর কর্তা’ মানসিকতা: বম্বার্ডিয়ার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ কানাডার প্রতি যেন এক কর্তৃত্বশীল, একতরফা ও আক্রমণাত্মক নীতির প্রতিফলন। কখনও তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের “একান্নতম প্রদেশ” বলে উল্লেখ করছেন, কখনও অন্টারিও লেকের নাম বদলে “লেক আমেরিকা” ঘোষণা করেছেন, আর এখন কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বম্বার্ডিয়ারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে চাইলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাক্টরি খুলতে হবে।

সাম্প্রতিক এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “NO MORE SELLING BOMBARDIER IN THE UNITED STATES! Their products aren’t good enough!” তার দাবি, বম্বার্ডিয়ারের ৫০%-এর বেশি রাজস্ব আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, কিন্তু কানাডা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে (যেমন গালফস্ট্রিম এয়ারোস্পেস) কানাডায় ব্যবসা করতে বাধা দিচ্ছে। তাই তার হুমকি, যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না শুরু করে, তবে তাদের বিমান যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এটি কেবল বাণিজ্যিক চাপ নয়, বরং প্রতীকীভাবেও কানাডার ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। আগস্টে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে অন্টারিও লেককে “লেক আমেরিকা” বলে ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও কানাডা এই নাম পরিবর্তন মানতে অস্বীকার করেছে এবং অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বিশাল বিলবোর্ডে লিখেছেন, “Lake Ontario. Now and Always.” এর আগেও ট্রাম্প বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম প্রদেশ” হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা কানাডিয়ানদের কাছে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর হিসেবে গণ্য হয়েছে।

ট্রাম্পের এই আচরণ কেবল কানাডার প্রতি নয়। তিনি বিভিন্ন সময়ে মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীনসহ অনেক দেশের ওপর একই ধরনের একতরফা চাপ প্রয়োগ করেছেন। তার “America First” নীতির মূলমন্ত্র হলো—অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাক্টরি খুলতে বাধ্য করা, না হলে তাদের পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপানো। এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের এক কর্তৃত্বশীল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে, যেখানে অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

অনেক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক ট্রাম্পের এই আচরণকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বা “বিগারগ্রস্ত” হিসেবে বর্ণনা করছেন। একজন প্রেসিডেন্টের পক্ষে প্রতিবেশী দেশের লেকের নাম পরিবর্তন করা, তাদেরকে “প্রদেশ” বলে ডাকা, বা বাণিজ্যিক চুক্তি ভেঙে একতরফা শুল্ক আরোপ করা—এসব আচরণ আন্তর্জাতিক কূটনীতির norms-এর সম্পূর্ণ বিপরীত। বম্বার্ডিয়ার ইস্যুতেও ট্রাম্পের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিমানের সার্টিফিকেশন দেয় স্বাধীন সংস্থা FAA, যা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, রাজনৈতিক চাপে নয়। তবু ট্রাম্প এই জটিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন।

বম্বার্ডিয়ার ইস্যু কেবল একটি বিমান কোম্পানির ওপর চাপ নয়, এটি ট্রাম্পের সামগ্রিক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথিবীর কর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি যেকোনো দেশের ওপর একতরফা চাপ প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। এই নীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার পরিবর্তে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

১৪৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন