আগামীকাল খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার: দীর্ঘ তিন মাস পর প্রবেশের অনুমতি
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনের নয়নকাড়া স্পটগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন এবং জেলেরা জীবিকার তাদিগে নদী-খালে প্রবেশ করতে পারবেন। সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার এই খবরে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এই সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটকেরা আবারও বনের অভয়ারণ্য ছাড়া সব দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সাথে বনের নদী ও খালে মাছ ধরার অনুমতি পাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটন ও মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে-বাওয়ালিদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত পরিবার ধারদেনা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করেছেন। বন খুলে দেওয়ায় তাদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। গভীর বনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষায় বন বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত যৌথ টহল বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার ট্রলার ও বোট মালিকেরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বনজীবীদের পাস প্রদান এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় যাবতীয় দাপ্তরিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বনের অভয়ারণ্য ঘোষিত অঞ্চলগুলোতে আগের মতোই প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধিতে ২০১৯ সাল থেকে এই বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে আসছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে