র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান ২০২৬ সালের র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এ ঘোষণা দেয়। রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি।
পুরস্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের বিজয়ীদের কাজের মধ্যে মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তার মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে এ সম্মাননা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো নেতা একা পথ চলেন না। এই স্বীকৃতি তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের উৎসর্গ করেছেন। পাশাপাশি গত ২৫ বছর তাঁদের কাজে আস্থা রাখা মানুষদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই পুরস্কার একই সঙ্গে আনন্দের এবং বড় দায়িত্বের।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশের দুর্গম, প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।
ফ্রেন্ডশিপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দুর্গম নদীবেষ্টিত অঞ্চল থেকেই রুনা খানের উন্নয়নকাজের শুরু। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, জীবনযাপন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কার্যকর মডেল তৈরিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
রুনা খান হলেন বাংলাদেশ থেকে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এ পুরস্কার পান। এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, ২০১২ সালে পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ২০১০ সালে এ এইচ এম নোমান, ২০০৫ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ২০০৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন।
বাংলাদেশের আরও উল্লেখযোগ্য ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওই বছরই তাঁর নামে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর, ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
প্রতিবছর ৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর তাঁর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
২০০৮ সাল পর্যন্ত ছয়টি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার দেওয়া হতো। শ্রেণিগুলো ছিল সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া পুরস্কারটি আর নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।
১১০ বার পড়া হয়েছে