ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে মোটরসাইকেল না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাকিব বেপারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর আইনি লড়াইয়ের পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। একই সাথে আদালত আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রোববার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক শামীমা পারভীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় মামলার একমাত্র আসামি সাজাপ্রাপ্ত রাকিব বেপারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।
নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটে। মাত্র ১৮ বছর বয়সী হ্যাপি বেগমের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দাবি করেছিলেন তার স্বামী। দাবিকৃত অর্থ ও মোটরসাইকেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় হ্যাপির ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
can add the third and fourth paragraph cleanly without using actual linebreaks in the JSON value.
ঘটনার দিন রাতে নির্যাতনের এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হ্যাপিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরের দিন সকালে বারান্দায় হ্যাপির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা হুমায়ুন শেখ। ময়নাতদন্ত ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, হত্যার শিকার গৃহবধূ হ্যাপি সেসময় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার শরীরে ও গলায় নির্মম আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের দিনই নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিলে দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় আসে। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী খান ভুইয়া রায়ের সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা আদালতে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
১০৫ বার পড়া হয়েছে