লামায় নাগরিক অধিকার ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ নিয়ে কর্মশালা
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের লামায় নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিয়ে তথ্য বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) লামা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’-এর আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
EMPOWERMENT Project ও গ্রাউস (GRAUS) আয়োজিত এ কর্মশালায় সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও), কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার (সিসিএম), স্থানীয় অংশীজন, সাংবাদিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সচেতনতা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে নাগরিক উদ্যোগের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম, গ্রাউসের উপনির্বাহী পরিচালক চিন্ময় মুরুং এবং সহকারী তথ্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি চহ্লামং মার্মা।
কর্মশালার শুরুতে গ্রাউসের কর্মকর্তা ক্যনু মং মার্মা মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নাগরিক সম্পৃক্ততার উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা এবং নাগরিকদের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। নাগরিকদের নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরতে হবে।
বিশেষ অতিথিরা নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামত ও অধিকারকে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তাঁরা।
কর্মশালায় লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার (সিসিএম) নেতৃবৃন্দ মাঠপর্যায়ে তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নাগরিকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।
বিভিন্ন ইউনিয়নে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত কার্যক্রম, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জনগণের মতামত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। এতে এক ইউনিয়নের সফল উদ্যোগ সম্পর্কে অন্য ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের জানার এবং সেখান থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জনগণের মতামত যুক্ত হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হতে পারে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা নাগরিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সার্বিক পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করেন ফোকাল পার্সন ও সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা।
অনুষ্ঠানে লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সিসিএম নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় অংশীজন, সিএসও, সিবিও, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
EMPOWERMENT Project ও GRAUS-এর এ কার্যক্রম সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় এবং কানাডার অংশীদারত্বে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মশালার আয়োজকেরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বাড়বে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কার্যকর সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে