কুষ্টিয়ায় মুসতানজিদ মেডিসিটিতে রোগী দেখছেন প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন রেজোয়ানুল
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ‘মুসতানজিদ মেডিসিটি’ হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করেছেন দেশের প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর ডাঃ রেজোয়ানুল হক বুলবুল। দেশের এই স্বনামধন্য চিকিৎসকের হাত ধরে এখন কুষ্টিয়াতেই উন্নতমানের হৃদরোগ চিকিৎসার নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় রোগীরা। ফলে বাইপাস সার্জারি বা হার্টের রিং পরাতে এখন আর রোগীদের ঢাকা কিংবা ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, ঢাকা পিজি হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং হার্ট, ফুসফুস ও রক্তনালী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ রেজোয়ানুল হক বুলবুল গত রবিবার থেকে কুষ্টিয়া মুসতানজিদ মেডিসিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রোগী দেখা শুরু করেছেন। প্রথম দিনেই তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অর্ধশতাধিক হৃদরোগী।
এর আগে রবিবার সকালে ডাঃ রেজোয়ানুল হক বুলবুল তাঁর নিজ এলাকা আলমডাঙ্গা থেকে হাসপাতালটিতে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও মুসতানজীদ মেডিসিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ এস এম মুসতানজীদ এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাঃ রেজোয়ানুল হক বুলবুল বলেন, মুসতানজীদ মেডিসিটি একটি আধুনিক মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্রতিষ্ঠান। এখানে বাইপাস সার্জারি ও রিং প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ল্যাব ফ্যাসিলিটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ল্যাব সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত হলে খুব শীঘ্রই এখানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে জটিল সব হার্ট সার্জারি করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে তিনি প্রতি মাসে এখানে নিয়মিত রোগী দেখবেন বলে জানান।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ এস এম মুসতানজীদ বলেন, চিকিৎসা সেবা কোনো পণ্য নয়, এটি একটি মানবিক সেবা। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞ এনেসথেসিওলজিস্ট ও দেশের নামকরা চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এখানে আউটডোর ও ইনডোরসহ সব ধরনের জটিল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই মহতী উদ্যোগের ফলে কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে আর হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা দেশের বাইরে যেতে হবে না। এটি কুষ্টিয়ার চিকিৎসাসেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১৯ বার পড়া হয়েছে