কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু: ওঝার ঝাড়ফুঁকে সময়পাড়
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাপের কামড়ে সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণে চিকিৎসার অবহেলায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বলি হতে হলো এই গৃহবধূকে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটার পাড়া গ্রামে সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর অকাল মৃত্যু হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম সাগরিকা (২৬)। তিনি ওই গ্রামের নূরে আলম জিকুর স্ত্রী এবং জামাল উদ্দিনের কন্যা। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ির বাইরে টয়লেটে যাওয়ার সময় সাগরিকাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। এই ঘটনার পর পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তারা রোগীকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সুস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। এতে রোগীর শরীরজুড়ে বিষ ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে রাত আড়াইটার দিকে সাগরিকাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম বা সাপে কাটার ওষুধ মজুত থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের কারণে একটি প্রাণ অকালেই ঝরে গেল।
এদিকে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল করে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা অপমৃত্যু মামলার ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাপে কাটার ঘটনায় কবিরাজি বা ওঝার ওপর নির্ভর না করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসন ও চিকিৎসকেরা।
১২৩ বার পড়া হয়েছে