ময়মনসিংহে কাস্টমস সিপাহিকে খুন: কেয়ারটেকারসহ গ্রেফতার ২
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস সিপাহি রাকিব রায়হানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ১৫ টুকরো করার ঘটনায় প্রধান আসামি ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তাঁকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর শ্রীমঙ্গল থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ঢাকা কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজু মির্জা ও তাঁর সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত কাস্টমস সিপাহি রাকিব রায়হান প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ফুলবাড়িয়ার সোয়াইতপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আসতেন। গত ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি নিজ ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট এনায়েতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত খাল থেকে ৩টি ব্যাগে ভরা রাকিবের ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে নিহত রাকিবের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন প্রধান আসামি রাজু মির্জা। ঘটনার রাতে বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে রাজু দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাকিব রায়হানকে খাইয়ে দেন। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে মাথায় লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আসামি সোহেল মির্জার সহায়তায় মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ার ওপর রেখে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে লাশ ১৫টি টুকরো করা হয়। পরে সেই টুকরোগুলো ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। আলামত নষ্ট করতে ডিটারজেন্ট ও হারপিক দিয়ে পুরো ঘর পরিষ্কার করেছিল আসামিরা।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লোহার রড, তিনটি ছুরি, রক্তমাখা পাঞ্জাবি ও মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা নিখোঁজ রাকিবের মোবাইল ফোন ও ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকাও উত্তোলন করেছিল, যা তদন্তে বড় সূত্র হিসেবে কাজ করেছে।
১১১ বার পড়া হয়েছে