যমুনায় ধরা পড়ল ৪১ কেজির বাঘাইর, বিক্রি সাড়ে ৫৩ হাজার টাকায়
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪১ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার বাঘাইর মাছ। বন্যপ্রাণী আইনে ‘মহাবিপন্ন’ ঘোষিত এই মাছটি পরে সাড়ে ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এই মাছ শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সমন্বয়ের অভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর এলাকার যমুনা নদীতে জাল ফেলেন আসিফ, ওহাব ও মতিন শেখ নামের তিন জেলে। ভোরবেলাই তাদের জালে ধরা পড়ে ৪১ কেজি ওজনের বিশালাকার বাঘাইর মাছটি। মাছটি ডাঙ্গায় তোলার পর সেটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে বাঘুটিয়া চরের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী মো. জাকির হোসাইন সাড়ে ৫৩ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে যান।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী বাঘাইর মাছকে 'মহাবিপন্ন' প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, জলাশয় বা নদ-নদী থেকে বাঘাইর মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্যকারীর সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্বী জানান, যমুনা নদীতে বড় বাঘাইর ধরা পড়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত পদক্ষেপ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নেওয়া সম্ভব।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির গণমাধ্যমকে জানান, মাছটি শিকারের খবর তারা পেয়েছেন। মৎস্য আইনে এটি শিকার নিষিদ্ধ না হলেও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইনে বাঘাইর শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে মৎস্য দপ্তরের নিজস্ব আইনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তারা কোনো তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মানিকগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
১১৩ বার পড়া হয়েছে