কলাপাড়ায় দেড় দশক ধরে জরাজীর্ণ ঘরে স্বেচ্ছায় বন্দি সালেহা
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ও অন্ধকার ঘরে নিজেকে বন্দি করে রেখেছেন সালেহা বেগম (৬০) নামের এক রহস্যময় নারী। দীর্ঘ এই দেড় দশকে তিনি একবারের জন্যও ঘর থেকে বের হননি এবং কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। তাঁর এমন রহস্যময় জীবনযাপন স্থানীয়দের মাঝে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পটুয়াখালী পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল কালামের স্ত্রী সালেহা বেগম। প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি বহির্বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। যে জরাজীর্ণ কুটিরটিতে তিনি বাস করছেন, সেটি প্রায় ১০ বছর আগেই হেলে পড়েছে। নর্দমার দুর্গন্ধযুক্ত পানি, বিষধর সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং বিদ্যুৎহীন এই অন্ধকার ঘরে কীভাবে একজন মানুষ দেড় দশক ধরে বেঁচে আছেন, তা ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে।
সালেহা বেগমের এই রহস্যময় জীবনযাপনের পাশাপাশি পরিবারটিতে চলছে চরম মানবিক বিপর্যয়। তাঁর ছেলে জিয়া গত তিন বছর ধরে লিভার ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। একমাত্র মেয়ে লাকী বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে এই অসচ্ছল সংসারটি টানছেন। তিনিই বাইরে থেকে মায়ের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। লাকী তাঁর মাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, গত ১৫ বছর ধরে সালেহা বেগমকে ঘরের বাইরে আসতে দেখা যায়নি। তিনি কোথায় গোসল করেন কিংবা প্রাত্যহিক কাজ সারেন, তা কারও জানা নেই। এমনকি কেউ কথা বলতে গেলেও তিনি কোনো সাড়া দেন না। মেয়ে খাবার দিলে কখনো খান, আবার কখনো ফিরিয়ে দেন।
সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এলে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম ওই বাড়িটি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এই জরাজীর্ণ ঘরে মানুষের বসবাস করা অসম্ভব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি সরকারি বাসস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে