বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতের
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার মার্কিন সরকারের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার দেওয়া রায়ে ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া ওই ভিসা স্থগিতের নীতিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন বিচারক জেনেট ভার্গাস। তাঁর মতে, নীতিটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বিচারক বলেন, অভিবাসন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ক্ষমতা নেই যে তিনি কোনো দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা নিষিদ্ধ করার নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকেই কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা স্থগিতের নীতিটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল। এর আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশের নাগরিকেরা পড়েছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েও ছিল এই তালিকায়।
এ ছাড়া বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র দপ্তর সে সময় যুক্তি দিয়েছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এতে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেও দপ্তরটি জানিয়েছিল।
তবে আদালত ওই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।
ভিসা নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠন—ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। মামলায় অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের পাশাপাশি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ভিসার আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও অংশ নেন।
বিচারক জেনেট ভার্গাস সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া বিচারক। মামলার শুনানি শেষে তিনি ভিসা স্থগিতের নীতিটি বাতিলের রায় দেন।
ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
১২৯ বার পড়া হয়েছে