জাতিসংঘের মহাসচিব পদে দ্বিতীয় দফার ভোট আজ
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব বাছাইয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোট দিচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবারও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন কি না, সেদিকে নজর থাকবে। তবে প্রতিযোগিতায় নতুন প্রার্থী যোগ হওয়ায় এখনই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত মাসে নিরাপত্তা পরিষদে প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য—স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনসহ—গোপন ব্যালটে প্রার্থীদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানান। প্রার্থীদের প্রতি সদস্য রাষ্ট্র সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত না থাকার অবস্থান জানাতে পারে।
প্রথম দফার ভোটের পর মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে থাকা প্রার্থীদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ইকুয়েডরের ইভোনে আ-বাকি। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট, উগান্ডার ওলারা ওতুনু এবং সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাকি সাল।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘবিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তির মতে, প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক চিত্র পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে, প্রতিযোগিতা কোন দিকে এগোচ্ছে।
ফোর্তি বলেন, জুলাইয়ের প্রথম ভোটের তুলনায় এবার কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। শুরুতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থন আরও সংহত করতে পারেন কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের পরও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান খুব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এর অন্যতম কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ এখনো নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রার্থীও প্রতিযোগিতায় যুক্ত হতে পারেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়াও এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে কেউ যদি অচলাবস্থা তৈরি করেন এবং কোনো প্রার্থীই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও প্রার্থী এই দৌড়ে যুক্ত হতে পারেন।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একটি দেশের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই শর্ত পূরণ হলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থীর নাম সুপারিশ হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠাবে। এরপর সাধারণ পরিষদে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করা হবে।
চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা করা হয় মূলত অতীতের অচলাবস্থা এড়াতে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে মহাসচিব পদে প্রার্থীদের নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ও মতবিরোধের কারণে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
অনানুষ্ঠানিক ভোটে শুরুতে সব সদস্যের ব্যালট একই রঙের থাকে। কয়েক দফা ভোটের পর স্থায়ী পাঁচ সদস্যের জন্য আলাদা রঙের ব্যালট ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো আছে কি না, তা বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয় না।
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রাখার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। সাধারণত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সেই রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে একজনের মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
১০৬ বার পড়া হয়েছে