মধ্য আফ্রিকান সোনার খনি ধসে শতাধিক নিহত
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৫:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাম্বোয়ে গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলের জাম্বোয়ে গ্রামে সোনার একটি খনি ধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা, ত্রাণকর্মী ও খনি–সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রামটি বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিতে ভূমিধসের পর অনেক মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়েছেন। তবে ওই বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
উদ্ধারকাজে যুক্ত রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক জেরভাইস গ্যানাগোরোহ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ধসে পড়া খনি থেকে শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি খনি সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও রয়টার্সকে নিহতের সংখ্যা শতাধিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
খনিতে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। ফলে উদ্ধারকাজ যত এগোবে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাবুয়া এলাকার এক কৌঁসুলি জানান, শ্রমিকেরা কাজ করার সময় খনির বেশ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খনিশ্রমিক সেড্রিক এমবাঙ্গো বলেন, মাটি পুরোপুরি ধসে পড়ে শ্রমিকদের চাপা দেয়। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি মাটির নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পাশাপাশি ক্যামেরুনের নাগরিকও রয়েছেন। ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন ক্যামেরুনের নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
‘জীবিত পাওয়া অলৌকিক হবে’
ক্যামেরুনের ওই অঞ্চলের গভর্নর গ্রেগোয়ার মভোঙ্গো রাষ্ট্রীয় রেডিওকে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
জাম্বোয়ে যুব পরিষদের সদস্য বার্ট্রান্ড বে ইয়াঙ্গে বলেন, ধসে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা ‘অলৌকিক ঘটনা’ হবে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও হতাশা থেকে পরিবারকে বের করে আনতে কাজ করতে আসা তরুণ-তরুণীদের এভাবে প্রাণ হারাতে দেখে স্থানীয় মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম করবো নিউজ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে ট্রাক্টরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাটির নিচে কেউ জীবিত থাকলে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার তাঁদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছোট পরিসরের সোনার খনিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে এসব খনির কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে মানুষ পরিত্যক্ত বা অনিরাপদ খনিতে কাজ করতে নামেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ছোট পরিসরের এসব খনিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রেই চলতি বছর বিভিন্ন খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
১৮১ বার পড়া হয়েছে