সর্বশেষ

মতামত

ট্রাম্পের ৫০% শুল্ক: কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরু

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শুক্রবার রাত পর্যন্ত ওয়াশিংটনে তীব্র দরকষাকষির পর কোনো চুক্তি না হওয়ায় শনিবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “অন্যায় ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক” শেষ মুহূর্তের দাবি তুলে ধরে, যার ফলে কানাডা আলোচনা স্থগিত করে নিজ দলকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পেছনের কারণ

তিন দিনের তীব্র আলোচনার পর হঠাৎ করেই সব ভেঙে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে কানাডা ভারী ট্রাকের শুল্ক কমানোসহ নতুন দাবি তোলে। অন্যদিকে কানাডার অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে “টার্ফ ওয়ার” ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব ছিল—কে কোন অংশ নিয়ন্ত্রণ করবে তা নিয়ে সংঘাত দেখা দেয়।
রাজনৈতিক চাপও ছিল গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের “প্রোটেকশনিস্ট” লাইন বজায় রাখার চাপ; কানাডায় কার্নির domestically “অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া” এড়ানোর চাপ।

কোন কোন পণ্যে শুল্ক, কী প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর—ওয়াইন, ফার্নিচার, ডেয়ারি, সিমেন্ট, পোশাক, ফিশিং রড, হকি গিয়ার, প্লাইউড, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডা জানিয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, ডেয়ারি, অ্যাপ্লায়েন্স, কৃষি যন্ত্র, পাল্প-পেপার, ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু পণ্য যা আগেই টার্গেটেড ছিল, সেসব খাতে “ডলার ফর ডলার” পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।
রয়্যাল ব্যাংক অফ কানাডার অনুমান, এই শুল্ক সরাসরি কানাডার জিডিপির প্রায় ০.৪% ও কিছু চাকরিকে প্রভাবিত করবে; তবে এটি কানাডার রপ্তানির মাত্র ~৫% কভার করে।

কানাডার কৌশলগত সীমাবদ্ধতা

কানাডা আয়তনে ও সম্পদে বড়, কিন্তু সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক ছোট। কানাডার রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়; তাই শুল্কযুদ্ধে কানাডার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কানাডার প্রতিরক্ষা বাজেট ও সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় নগণ্য; নিরাপত্তায় মূলত ন্যাটো ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
তবে কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল, গ্যাস, খনিজ, কাঠ) ও উত্তর মেরুর কৌশলগত অবস্থান শক্তির উৎস, কিন্তু বাজার অ্যাক্সেস ও লজিস্টিক্সে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বেশি। দীর্ঘমেয়াদে কানাডা বাণিজ্য বৈচিত্র্য (এশিয়া, ইউরোপ), নতুন পাইপলাইন ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে চাইছে, কিন্তু এটি সময়সাপেক্ষ।

এখন কানাডার সামনে কী অপশন

পাল্টা শুল্কের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি, “ডলার ফর ডলার” পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শিল্পে চাপ দিয়ে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা। আইনি ও বহুপাক্ষিক ফোরামে ডব্লিউটিও বা ইউএসএমসিএ’র (নাফটা-পরবর্তী চুক্তি) আওতায় মামলা বা প্যানেল গঠন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, অঙ্গরাজ্য ও শিল্প গোষ্ঠীর সাথে লবিং, যেখানে শুল্কের ক্ষতি তাদেরও হবে। দীর্ঘমেয়াদি বৈচিত্র্য: বাণিজ্য পার্টনার ও সাপ্লাই চেইন পুনর্বিন্যাস, যাতে ভবিষ্যতে একক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে।

বড় প্রশ্ন: ছোট অর্থনীতি বনাম পরাশক্তি

কানাডার মতো দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—স্বল্পমেয়াদে পাল্টা শুল্ক দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাজার অ্যাক্সেস, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো কঠিন। তাই কানাডার কৌশল হতে হবে “দৃঢ় কিন্তু নমনীয়”: পাল্টা ব্যবস্থা দিয়ে বার্তা দেওয়া যে একপক্ষীয় চাপ চলবে না, পাশাপাশি দরজা খোলা রাখা যাতে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনায় ফিরে আসে।
এই সংকট কানাডাকে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য বৈচিত্র্য ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করবে। তবে আপাতত, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়েছে।


লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন