গ্রামীণ চিকিৎসাসেবায় প্রতিটি ইউনিয়নে হচ্ছে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তৃণমূলের স্বাস্থ্যকাঠামো ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালুর মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। রোববার বিকেলে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
নতুন এই ‘হেলথ হাব’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ একই ছাদের নিচে সব ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাবেন। এসব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। বিশেষ করে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কাজ করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
তৃণমূলের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫১টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি এবং ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হচ্ছে।
দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকট এবং অচল আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চালুর বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্ধ থাকা আইসিইউগুলো সচল করা হবে। তবে কাজের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের যেকোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গ্রামীণ স্বাস্থ্য খাতের এই মহাপরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। জয়পুরহাট হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন, ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েলসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে