শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ডিসি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি বিএম ইস্রাফিলসহ তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগমের প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শরীয়তপুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর শহরের শিল্পকলা একাডেমির পাশে অবস্থিত প্রায় দুই যুগের পুরোনো শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর শনিবার রাতে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগমের নির্দেশনায় এই ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরদিন রবিবার সকালে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের ক্ষতিগ্রস্ত সীমানা প্রাচীর পরিদর্শনে গেলে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ইস্রাফিলের ডান হাত ভেঙে যায় এবং তিনি মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন রবীন এবং কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরিফুজ্জামান ইমনসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
আহত সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিলের দাবি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাব সভাপতির ছেলে পলাশের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পেছনে জেলা প্রশাসকের পরোক্ষ মদদ ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, তিনি মৌখিক সম্মতি নিয়েই প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে