ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতি, সাজেক ও লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খাগড়াছড়িতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়ক তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক এই ঢলে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর এবং খাগড়াছড়ি গেট সংলগ্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার বহু পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। হঠাৎ এমন অতিবৃষ্টির ফলেই পাহাড়ি ঢল নেমে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাজেক ও লংগদু অভিমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দুর্গত এলাকার অনেক বাসিন্দা ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, বন্যা কবলিতদের উদ্ধার ও সহায়তায় সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে