স্ত্রীর ওপর অভিমান করে অবুঝ সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন বাবা!
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে সাড়ে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন এক বাবা। অলৌকিকভাবে দুজনেই বেঁচে গেলেও তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী শহরের আরশীনগর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল সড়কে।
গুরুতর আহত উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আল আমিন (২৫)। তিনি নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন। স্বামীর এই মাদকাসক্তি সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তার স্ত্রী রুমি বেগম তাকে ছেড়ে চলে যান। তবে চলে যাওয়ার সময় তিনি সাড়ে চার বছরের শিশু সন্তান আরিয়ানকে আল আমিনের কাছেই রেখে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে নতুন করে সংসার শুরু করার জন্য আল আমিন প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্প্রতি রুমি বেগম আবারও স্বামীর সংসারে ফিরে আসার একটি আশ্বাস দিলে আল আমিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্ত্রী ফিরে না আসায় চরম হতাশা ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েন তিনি। এই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন আরশীনগর এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন সন্তানকে কোলে নিয়ে লাইনে ঝাঁপ দেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানিয়েছেন, আহত দুজনের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যার দিকে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে