তৃণমূলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির মূল ভিত্তি: শেখ সাদী
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৪:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
তৃণমূলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি ও এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শেখ সাদী। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠনের প্রকৃত শক্তি আসে তৃণমূলের ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক আস্থা এবং কর্মীদের আন্তরিকতা থেকে। একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ভিত্তি যত বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে, জনগণের কাছে সেই দলের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতাও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, বিএনপি নেতা, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি এবং এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শেখ সাদী।
শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মী সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শেখ সাদী বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দলের প্রতিটি কর্মীই আমাদের শক্তি। আর তৃণমূলের ঐক্যই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। কেন্দ্র থেকে একটি দল যতই শক্তিশালী মনে হোক না কেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ, সক্রিয় ও সংগঠিত না থাকেন, তাহলে সেই শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম বড় শক্তি হলো দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও কঠিন সময়েও কর্মীরা দলের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
শেখ সাদী বলেন, “ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দলের স্বার্থে আমাদের সবাইকে ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করি, তাহলে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হবে। আর আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের শুধু দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া, সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝা এবং সম্ভবপর ক্ষেত্রে তাদের পাশে দাঁড়ানোই একজন রাজনৈতিক কর্মীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
“রাজনীতি মানুষের জন্য। তাই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে নেতাকর্মীদের মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণ যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজেদের আপনজন হিসেবে মনে করেন—সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে,” বলেন তিনি।
চাঁদপুর ইউনিয়নসহ কুমারখালীর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ সাদী বলেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুধু সভা-সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং অভিজ্ঞ ও নবীন নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, “তৃণমূল শক্তিশালী হলে দল শক্তিশালী হয়। আর ঐক্যবদ্ধ সংগঠনই পারে মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা রাখতে। আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, দলের কোনো কর্মীই ছোট নন। প্রত্যেক কর্মীর শ্রম, সময়, ত্যাগ ও আন্তরিকতা সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে সম্মান দিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
দলীয় শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। দলের সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
শেখ সাদী আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করা নয়; এমন একটি সংগঠন তৈরি করা, যে সংগঠন জনগণের পাশে থাকবে, মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা বলবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।”
তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সামনে যে কোনো রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে নিয়মিত কর্মীসভা, মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
কর্মী সভায় বক্তারা বলেন, একটি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি যত বেশি মজবুত হবে, দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম তত বেশি কার্যকর হবে। চাঁদপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। দলীয় কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মীসভা ও সাংগঠনিক মতবিনিময় চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কর্মী সভার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নতুন গতি পাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে