সর্বশেষ

সারাদেশ

সহায়তার অভাবে গোপালগঞ্জে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনার অভাবে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। একসময়ের লাভজনক এই ফসলের আবাদ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন চাষিরা, যেখানে সরকারি সহায়তা পেলে এই খাতের সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক বছর আগেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হেক্টর হেক্টর জমিতে অর্থকরী ফসল আখের বাম্পার ফলন হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত আখ সরবরাহ করা হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। সরকারি সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার টেংরাখোল, পশারগাতী, গোবিন্দপুর, মহারাজপুর, বাটিকামারী ও বাহিরবাগ গ্রাম একসময় আখ চাষের জন্য বেশ বিখ্যাত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে মাত্র ৩৫ জন কৃষক আখের আবাদের সাথে জড়িত রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুকসুদপুরে ২২ হেক্টর জমিতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হয়ে মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, আখের ভালো ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার পরও সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তারা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় কদমপুর গ্রামের অভিজ্ঞ চাষি মো. ইদ্রিস মোল্যা জানান, প্রায় চার দশক ধরে তিনি আখের চাষ করছেন। অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হলেও কৃষি অফিস থেকে চাষিদের খোঁজ নেওয়া হয় না। অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষেও যদি বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক দেওয়া হতো, তবে এই চাষে আবারও সুদিন ফিরত। অন্যদিকে টেংরাখোলা গ্রামের চাষি মোক্তার শেখ জানান, এক একর জমিতে আখ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা এবং তা বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে। কিন্তু এলাকায় কোনো সুগারমিল বা চিনিকল না থাকায় বাধ্য হয়ে হাটে-বাজারে ঘুরে আখ বিক্রি করতে হচ্ছে। জমিতে বসেই যদি আখ বিক্রির সুব্যবস্থা থাকত, তবে কৃষকদের কষ্ট লাঘব হতো।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানান, মূলত বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশনের আওতাধীন চিনিকলগুলো কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। তারা উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। তবে গোপালগঞ্জ অঞ্চলটি চিনিকলের আওতাভুক্ত না থাকায় স্থানীয় চাষিদের জন্য বিশেষ কোনো সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। এরপরও কৃষকেরা কোনো পরামর্শ চাইলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন