সর্বশেষ

জাতীয়

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ নিহত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, শিশু ছেলে শর্ণশিষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরো ভবনে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোটেলের কয়েকটি কক্ষে থাকা অতিথিরা আটকা পড়েন।

নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, শিশু ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী রয়েছেন। ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। বুধবার (১৯ আগস্ট) তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

স্থানীয় ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূর জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার দুই বছর বয়সী শিশু আহমেদ বাবুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একজন শিশু। অন্যদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা। তাঁরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ভেতরে দ্রুত ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় ওপরের তলাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট কিংবা এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেকে এসব হোটেলে অবস্থান করেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে মোট কতজন অতিথি ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

হোটেলটির এক অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হোটেলের ভেতর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, ভবনটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু ছিল এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল না।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং অগ্নিকাণ্ডের সময়কার পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

২৪৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন