সর্বশেষ

আইন-আদালত

আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৩১ আগস্ট

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের শুনানি পিছিয়ে ৩১ আগস্ট ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবুল কালাম আযাদের আপিলের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা থাকলেও আদালত আজকের মতো শুনানি মুলতবি করে আগামী ৩১ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। সেই আদেশের ভিত্তিতেই তিনি আপিল বিভাগে তার দণ্ড ও সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছেন।

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করেন আবুল কালাম আযাদ। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আবেদনের বিরোধিতা করেছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারা অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় এই আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান। আবুল কালাম আযাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘পূর্ণ ন্যায়বিচার’ বা ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নীতির ভিত্তিতে আপিল করার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট আইনগত বিধান থাকা অবস্থায় ওই অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ নেই বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।

এর আগে ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছিলেন। তখন চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, আপিলকারী পক্ষ মামলার পেপারবুক বা প্রয়োজনীয় কপিও রাষ্ট্রপক্ষকে দেয়নি। এ কারণে প্রস্তুতির জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল।

আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রায় ১৩ বছর আগের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে আপিল করতে বিলম্বের জন্য ৪ হাজার ৯১৫ দিন মার্জনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

আপিলটি প্রথমে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। পরে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি তখন থেকেই পলাতক ছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে মৃত্যুদণ্ডের কারণে পৃথকভাবে কারাদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি রায়ে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেন আবুল কালাম আযাদ। গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রায় ১৩ বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আপিল বিভাগ থেকে যথাযথ আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি যে অবস্থায় আছেন, সে অবস্থাতেই থাকবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

১৪১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন