বকশীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় গার্ড অব অনারে বাধা
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে দেলোয়ার হোসেন নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বাধা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটায় বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।
জানাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে যাওয়ার পথে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনার গাড়ি আটকে দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা দেলোয়ার হোসেনকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনার না দেওয়ার জন্য বাধা দেন। এ সময় তাঁদের বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা গার্ড অব অনার না দিয়েই ফিরে আসেন। পরে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে দেলোয়ার হোসেনকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, একজন মৃত মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সম্মান থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেনের নামে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট রয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পেয়ে আসছিলেন।
দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মমিনুর রহমান স্বপন বলেন, তাঁর বাবা সরকারি গেজেটভুক্ত বৈধ মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে এর আগে একটি পক্ষ হাইকোর্টে রিট করেছিল। পরে হাইকোর্টের রায়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বহাল থাকেন। তাঁর বাবা নিয়মিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। পূর্বশত্রুতার জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী এসব করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী বলেন, দেলোয়ার হোসেন একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁকে কোনো যুদ্ধ বা সহযোগিতা করতে দেখা যায়নি। এ কারণে তাঁরা প্রশাসনের গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দিয়েছেন।
সরকারি গেজেটের বিষয়ে জানতে চাইলে নওশেদ আলী বলেন, পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে গেজেট পাস হওয়ার বিষয়টি উপজেলা বা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, বকশীগঞ্জ উপজেলায় এ ধরনের আরও প্রায় ১০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তাঁদের কাউকেই রাষ্ট্রীয় কোনো সুবিধা ভোগ করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় যাওয়ার সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ বাধা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, মৃত দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের নামে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁর জানাজায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পক্ষ রাস্তায় প্রশাসনের গাড়ি আটকে বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হয়নি।
১২৫ বার পড়া হয়েছে