সর্বশেষ

সারাদেশ

কুমারখালীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুস ছাত্তারের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় শিক্ষক সাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুস ছাত্তারের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ আগস্ট। ২০০২ সালের এই দিনে ৯২ বছর বয়সে কুমারখালী শহরের নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাওলানা আব্দুস ছাত্তার ১৯১০ সালে বর্তমান রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ভেলাবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মৌলভী মো. সাদেক আলী। তিনি বগুড়ার নাজমুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম এবং কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল ও কামিল পাস করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কুমারখালী বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং কুমারখালীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ১৯৪০ সালে তিনি কুমারখালী এম. এন. উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে ১৯৮৫ সালে অবসর নেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি মাওলানা আব্দুস ছাত্তার কুমারখালী থানা মুসলিম সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি কুমারখালী পৌরসভার সরকার মনোনীত কমিশনারও ছিলেন। ১৯৫২ সালের পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচনে তিনি প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

ধর্মীয় জ্ঞান ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মাওলানা আব্দুস ছাত্তার ছিলেন অত্যন্ত সুপরিচিত। আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষায় তাঁর ছিল সমান দক্ষতা। কোরআন-হাদিসের আলোকে তিনি যুগোপযোগী ফতোয়া দিতেন। ফারায়েজ বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল এবং তাঁর প্রস্তুত করা ফারায়েজ কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য ছিল বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর ছাত্রদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, ধর্মীয় শিক্ষক হলেও তিনি কোনোভাবেই ধর্মান্ধ ছিলেন না। সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে কুমারখালীর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তাঁর বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন ধর্মের পরিবারের সঙ্গেও ছিল ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ও তিনি ছিলেন সচেতন ও সক্রিয়। কুমারখালীতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার মিছিলে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন এবং পরে গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন। সে সময়ের ছাত্র নেতাদের সঙ্গে তিনি আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিরও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন।

মাওলানা আব্দুস ছাত্তারের শিক্ষকজীবনের বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর মহানুভবতা, সরলতা ও নীতিনিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া যায়। এক শিক্ষার্থী উর্দু না জানার কারণে পরীক্ষার খাতায় শিক্ষকের ছবি এঁকে পাস করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ওই শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন এবং তাকে প্রশ্নের উত্তর লিখিয়ে পাস নম্বর দেন। আবার চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর আর্থিক সংকটে পড়লেও কারও কাছে ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশের জন্য যাননি; বরং আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনযাপনের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে রাখতেন। সন্তানদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। তাঁর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ছেলেরা সরকারি চাকরি ও শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হন।

তাঁর সাবেক ছাত্রদের মতে, মাওলানা আব্দুস ছাত্তার ছিলেন শুধু একজন ধর্মীয় শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন একজন আধুনিক, উদার ও মানবিক চিন্তার মানুষ। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে ভূমিকা রাখেন। তাঁর ছাত্রদের অনেকেই পরবর্তী জীবনে সরকারি চাকরি, শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশায় প্রতিষ্ঠিত হন।

মৃত্যুর ২৪ বছর পরও তাঁর ছাত্র, সহকর্মী ও কুমারখালীর মানুষের কাছে মাওলানা আব্দুস ছাত্তারের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সাবেক শিক্ষার্থীরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও তাঁর মানবিক, উদার ও শিক্ষাবান্ধব আদর্শ স্মরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

১০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন