দৌলতপুর উপজেলা চত্বরে একের পর এক চুরি, আদালত ও সরকারি দপ্তরে চরম আতঙ্ক
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সিনিয়র সহকারী জজ আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একের পর এক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অতি সম্প্রতি জজ আদালতের এসি-র তামার তার ও কৃষি অফিসের সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনার পর সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং ধারাবাহিক এসব চুরির কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) বাইরের অংশের তামার তার ও বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এসে এসি চালু করতে গিয়ে চুরির বিষয়টি টের পান। এর আগেও এই আদালতের এসির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আদালতের পেশকার মাসুদ রানা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার বিভাগীয় দপ্তরে বারবার এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আদালতের বার সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনসার ও চৌকিদারদের নিয়মিত পাহারা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একের পর এক চুরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ইতোপূর্বে চুরির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আদালত ছাড়াও উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত কৃষি অফিসের দুটি সিসি ক্যামেরাও সম্প্রতি চুরি হয়েছে। প্রথমে একটি ক্যামেরা চুরির পর নতুন করে আরেকটি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেটিও এক সপ্তাহের মধ্যে খোয়া যায়। এছাড়া ইতিপূর্বে পরিষদ অডিটোরিয়ামের বৈদ্যুতিক তার এবং পরিত্যক্ত ভবনের জানালা-দরজা ও গ্রিল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে চুরির সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
১০৮ বার পড়া হয়েছে