ট্রিপল মার্ডার রহস্যভেদ : একজনেই মাত্র ১০ মিনিটে খুন করেছে ৩ জনকে
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় একই বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল একাই তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের একটি বিশেষ দল বিকেল ৩টার দিকে বাবুলকে রায়নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০ মিনিটে তিনজনকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাবুল পেশায় কসাই। পাশাপাশি তিনি মাঝেমধ্যে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। ওই বাসায় আগে কাজ করার কারণে বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে দরজায় নক করেন। তাহমিনা দরজা খুলে তাঁকে ভেতরে নিয়ে যান। পরে একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন।
তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বারান্দা দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যান। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে রায়নগর এলাকা থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার পাশের ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিহত তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে