সর্বশেষ

শিক্ষা

ইডেন কলেজে খাবার ও পানি নিয়ে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের ক্যান্টিন ও আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকা, হলের খাবারে পোকা ও পচা-বাসি খাবার পরিবেশন এবং রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জেবুন্নেছা ছাত্রীনিবাসে পচা পেঁপে ও সবজি রান্নার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)।

১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইডেন মহিলা কলেজে বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী ছয়টি আবাসিক হলে থাকেন। ছয়টি হলে ছয়টি ক্যান্টিন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে পাঁচটি। এ ছাড়া কলেজের মূল ক্যান্টিনও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মূল ক্যান্টিনে পান করার উপযোগী নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। আগে সেখানে একটি পানির ফিল্টার থাকলেও সেটির নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না। বর্তমানে ফিল্টারটিও নেই। ফলে ক্যান্টিনে খাবার খেতে আসা শিক্ষার্থীদের বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের বাড়তি খরচের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, প্রায় দুই মাস আগে ক্যান্টিনের পানির ফিল্টারে একটি বিড়াল পড়ে যায়। বিষয়টি জানার পর ফিল্টারটি যথাযথভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত না করেই পানি ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পানির নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

আবাসিক হলগুলোর খাবার নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কখনো খাবারে পোকা পাওয়া যায়, আবার কখনো বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। নিম্নমানের সবজি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার কারণে অনেকে পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী সিনহা নিশাত বলেন, একদিন হলের ক্যান্টিন থেকে আলু ভর্তা কিনে খাওয়ার সময় তাতে পোকা দেখতে পান। এরপর থেকে তিনি হলের ক্যান্টিনে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

সম্প্রতি জেবুন্নেছা হলে পচা পেঁপে ও পচা সবজি রান্নার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)–এর ইডেন কলেজ শাখা। সংগঠনটির অভিযোগ, কয়েকটি ক্যান্টিনের রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পচা ও বাসি সবজি এবং ফ্রিজে দীর্ঘ সময় রাখা খাবার পাওয়া গেছে। জেবুন্নেছা ও খোদেজা খাতুন হলের রান্নাঘরের পরিবেশ সবচেয়ে খারাপ ছিল বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ইডেন কলেজ শাখা সিওয়াইবির সভাপতি নাসরিন আক্তার বলেন, ক্যান্টিনগুলোর রান্নাঘরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাঁদের পরিদর্শনে পচা ও বাসি সবজি, ফ্রিজে রাখা খাবারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে, জেবুন্নেছা হলের ক্যান্টিন পরিচালক নাসির উদ্দিন দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা পচা পেঁপেটি রান্নার জন্য রাখা ছিল না; সেটি ময়লার ঝুড়িতে ছিল। পরিদর্শনের দিন বৃষ্টির কারণে রান্নাঘর কিছুটা অপরিষ্কার ছিল বলেও তিনি জানান। তবে ফ্রিজের সমস্যার কথা স্বীকার করে তা সমাধানে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জেবুন্নেছা হলের সুপার মোস্তারি সালেহীন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। রান্নাঘরের ফ্লোরসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা সমাধানেও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

খোদেজা হলের ক্যান্টিন পরিচালক মো. নাসির বলেন, লাকড়ি দিয়ে রান্না করার কারণে রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখা কঠিন। তবে ফ্রিজের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবিক্রীত খাবার ফ্রিজে রাখতে হলেও শিক্ষার্থীদের তা পরিবেশন না করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তাঁর।

কলেজ কর্তৃপক্ষও কয়েকটি ক্যান্টিনের পরিবেশ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ১১তলা হলের সুপার আসমা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েক দফা ক্যান্টিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরেক হলের সুপার দিল আফরোজ বলেন, খাবারের মান উন্নত করতে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে অন্তত একবার ক্যান্টিন পরিদর্শন করছেন। পানির সমস্যা সমাধানে একটি পানির ফিল্টার স্থাপনের বিষয়েও অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মূল ক্যান্টিনের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ক্যান্টিন চালুর পর থেকেই সেখানে পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা নেই। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং পচা বা মানহীন খাবার পরিবেশনের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। দীর্ঘদিন এমন খাবার খেলে পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. শামিম আরা বেগম বলেন, ১১তলা হলের ক্যান্টিন পরিদর্শনে অপরিষ্কার পরিবেশে রান্না করতে দেখা যাওয়ায় ক্যান্টিনটি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্য হল থেকেও অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। সিওয়াইবি সদস্যদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানির ফিল্টারসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আবাসিক হল ও ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা, রান্নার কাঁচামালের গুণগত মান যাচাই এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। খাবার পরিবেশনের আগে তা পরীক্ষা করার পাশাপাশি মূল ক্যান্টিনে স্থায়ীভাবে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
শিক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন