দুই দফা বদলির পরও নড়িয়া থানা ছাড়ছেন না ওসি বাহার মিয়া
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দুই দফা বদলির আদেশ আমলেই নিচ্ছেন না শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া। তাঁর অবাধ্যতার কারণে নড়িয়া থানার নতুন পদায়নকৃত কর্মকর্তা সেখানে যোগদান করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়াকে কিশোরগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়। গত ৯ আগস্টের মধ্যে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, অন্যথায় ১০ আগস্ট থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন। এর আগে গত ১৫ এপ্রিলও তৎকালীন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি।
এদিকে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহানের এক আদেশে নড়িয়া থানায় নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয় আনোয়ার হোসেনকে। কিন্তু বাহার মিয়া থানা হস্তান্তর না করায় নতুন কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারছেন না। এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান ওসি থানা থেকে বিদায় নিলেই তিনি সেখানে যোগদান করবেন। অন্যদিকে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নড়িয়া থানা এলাকায় অবস্থানকালে বাহার মিয়া ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা ও গ্রেফতার বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও দাগী অপরাধীদের সাথে তাঁর সখ্যের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।
সম্প্রতি নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর এই ওসির প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। সেখানে ওসির বিরুদ্ধে ওবায়দুল কাদের ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এদিকে অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় বিএনপি নেতা সাগরের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা ও জিডি দায়ের করিয়ে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে