চট্টগ্রামে হেফাজতের আমীর সাথে বৈঠকে মূল লক্ষ্যের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই সরকারের শক্তি। সাময়িক সহায়তার পরিবর্তে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে মানুষের শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বাঁশখালীর জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হেলিকপ্টারে পেহেলগাজী দিঘীর মাঠে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে স্বাগত জানান।
পরে সড়কপথে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁরা কুশল বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি'।
সফরসূচি অনুযায়ী, এরপর হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। দেশে ও বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে মানুষের শ্রমশক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনে কাজে লাগানোর আশাবাদও জানান তিনি।
জনসভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের প্রথম মাসে শুরু হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ১৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী ৪১ লাখ পরিবারের প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। বাঁশখালী উপজেলায় চলতি অর্থবছরে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত লবণচাষের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। লবণচাষিদের আর্থিক সংকট কাটাতে আলোচনার মাধ্যমে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের আশ্বাস দেন তিনি।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত শিল্পায়নের একটি বড় অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০১-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কথাও জানান তিনি।
বিনিয়োগ ও উন্নয়নের জন্য দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন দেশের সামনে প্রধান লক্ষ্য হলো দেশ গঠন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন।
জনসভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে হেলিকপ্টারে মীরসরাই-মাতারবাড়ী শিল্প করিডোরের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে