তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর আবার গ্রেপ্তার
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞ চেম্বার জজ আদালতের আদেশ অনুযায়ী আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই আদেশে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
হাফিজুর রহমানকে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি তনু হত্যা মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন।
গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। এর পরদিন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। পরে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি পড়াতে গিয়েছিলেন সোহাগী জাহান তনু। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত।
তনুর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন তাঁর বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে যায়। হাফিজুর রহমান ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান।
১২৬ বার পড়া হয়েছে