২২ শ্রাবণে স্মরণে রবীন্দ্রনাথ, বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ ২২ শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মহান স্রষ্টা। তার সৃষ্টিশীলতা, মানবতাবাদ ও দর্শন আজও বাঙালির জীবন ও চেতনায় গভীর প্রভাব রেখে চলেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণদিবস ২২ শ্রাবণ বাঙালির কাছে শুধু শোকের দিন নয়, বরং তার বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন নতুন করে স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র ও শিশুসাহিত্য—সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান।
শৈশবেই লেখালেখির সূচনা করেন রবীন্দ্রনাথ। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করা এই সাহিত্যিক পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পরিচিত করে তোলেন। তার সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে নতুন ভাষা, নতুন ভাবনা ও নতুন নান্দনিকতা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই হাজারের বেশি গান রচনা করেন, যা পরবর্তীতে ‘রবীন্দ্রসংগীত’ নামে একটি স্বতন্ত্র ধারার জন্ম দেয়। মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম, প্রকৃতি ও জীবনবোধের সঙ্গে মিশে থাকা এসব গান আজও বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথ। এর মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রথমবারের মতো বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার গান ও সাহিত্য বাঙালির সাহস, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে শক্তি জুগিয়েছে।
সাহিত্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরে ১৯২১ সালে গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে শ্রীনিকেতন এবং ১৯২৩ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
জমিদারি পরিচালনার সময়ও তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিঋণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেন। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি ত্যাগ করে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি বা সাহিত্যিক নন, তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক। সময় বদলালেও তার সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তার আবেদন এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে