সর্বশেষ

সারাদেশ

ভারত থেকে মরিচ এলো, তবু দামের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

শেখ ফারহান সাদাফ, বেনাপোল, যশোর
শেখ ফারহান সাদাফ, বেনাপোল, যশোর

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
টানা বৃষ্টিপাত ও সরবরাহ সংকটে দেশে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ার পর বাজার স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম চালানে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে এসেছে প্রায় ৯ টন মরিচ। তবে আমদানি খরচ ও খুচরা বাজারদরের বড় পার্থক্য নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ভারত থেকে আসলো মরিচ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কাঁচা মরিচের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সবজিটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়।

এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারতের মহারাষ্ট্র ও নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচা মরিচের প্রথম চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সকালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষে মরিচ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতীয় একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে প্রবেশ করে। চালানটির আমদানিকারক ছিল ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’। পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল ‘শিমু শিপিং লাইন্স’ নামের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া মঙ্গলবার সকালে ‘রয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র থেকে আরও ১৫ টন কাঁচা মরিচের একটি চালান দেশে আসে। বর্তমানে বন্দর থেকে এসব মরিচ খালাস করে দেশের বাজারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বেনাপোল উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাফ জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বন্দরে আসা চালানগুলো দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে আমদানি খরচ নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন হিসাব। আমদানি নথি অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে শুল্ক বাবদ প্রায় ৩৭ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বন্দর খরচ, পরিবহন, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও শ্রমিক মজুরিসহ সরকারি হিসাবে প্রতি কেজির মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা।

তবে আমদানিকারকদের দাবি, বাস্তবে খরচ আরও বেশি। আমদানিকারক শাহাজান বলেন, কাস্টমসের বিভিন্ন জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং পণ্য ছাড়ে বিলম্বের কারণে প্রতি কেজি মরিচের প্রকৃত খরচ প্রায় ১৩৫ টাকায় পৌঁছাচ্ছে।

এদিকে সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী ১৩৫ টাকা খরচ হলেও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান থাকছে প্রায় ১৬৫ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আমদানির পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো জরুরি। পরিবহন, হাতবদল এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ভোক্তারা আমদানির সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না।

সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শুধু আমদানির অনুমতি নয়, দ্রুত খালাস ব্যবস্থা, শুল্ক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন