গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে বর্বর নির্যাতন, অপমানে বিষপান
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৭:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে বিদ্যালয়ে গাছে বেঁধে বর্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লোকলজ্জা ও অপমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ওই ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অন্যজন একই এলাকার এক যুবক। এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, স্কুল চলাকালীন ওই শিক্ষার্থী ও যুবককে জোরপূর্বক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এরপর সবার সামনে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।
এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, জয় শিকদার ও মিশন রায়সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর লোকলজ্জা ও চরম অপমানে ওই স্কুলছাত্রী নিজ বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন গোলদার গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কেবল তাদের উদ্ধার করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি সেদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে