সর্বশেষ

জাতীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা সর্বজনীন ভ্যাকসিন না থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে হবে নিজের ঘর থেকেই। বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় পানি জমতে না দেওয়ার বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্যবিদদের ভাষ্য, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পানির ট্যাংক, এয়ার কন্ডিশনার কিংবা রেফ্রিজারেটরের নিচে জমে থাকা পানি পাঁচ দিনের বেশি রাখা উচিত নয়। কারণ এ সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। ফলে প্রতিটি পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই জরুরি। বৃষ্টির মৌসুমে মশার প্রজননের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৃষ্টির পরপরই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করা, ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানি জমতে পারে—এমন স্থান নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন রোগী। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৭ হাজার ৯ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ এবং ওই বছর মারা যান ৪১৩ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু হাসপাতালের নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দ্রুত রোগী শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে পারলে প্রতি বছরের ডেঙ্গু সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, জ্বর কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করলে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। এজন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সবার দায়িত্ব।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন