সর্বশেষ

সারাদেশ

এক বুকে দুই প্রাণ: দারিদ্র্যে থমকে গেছে জোড়া লাগা জয়নব-কুলসুমের চিকিৎসা

আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার আশা দেখিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে চরম অর্থসংকটে পড়ে এই দুই বোনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঢাকা নিয়ে যাওয়ার খরচ মেটাতে পারছে না অসহায় পরিবারটি। এখন সরকারি অনুদান ও সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছেন চিকিৎসাবঞ্চিত এই পরিবার।
জোড়া লাগা দেহ জয়নব-কুলসুমের

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় এই বিরল যমজ কন্যাসন্তান। গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে রয়েছে দুই বোনের শরীর। একজনের একটু নড়াচড়া বা কান্নায় অন্যজনও তীব্র কষ্ট সহ্য করছে প্রতিনিয়ত।

ঢাকা থেকে ফেরার সময় চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, সঠিক সময়ে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সে জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা জোগাড় করা এই পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান আগে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করলেও বর্তমানে নিজ এলাকায় মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। স্বল্প আয়ের এই সংসারে দুই শিশুর দুধ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

অসহায় বাবা নাহিদ হাসান কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, চিকিৎসকেরা যমজ মেয়ে দুটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করার ব্যাপারে ভরসা দিলেও অর্থাভাবে তিনি তাদের ঢাকা নিয়ে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে মা সানজিদা আক্তার জানান, দুই সন্তানকে আলাদাভাবে কোলে নেওয়ারও কোনো উপায় নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতায়াত এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো সামান্য সঞ্চয়ও তাদের হাতে অবশিষ্ট নেই।

বিষয়টি নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, এ ধরনের বিরল যমজ শিশুদের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসাকার্যক্রম শুরু করা জরুরি। সঠিক তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এদিকে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ আশ্বস্ত করেছেন যে, উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে এই পরিবারটিকে অতি দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন