বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। বাংলাদেশসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করতে নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার থেকেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাজনিত বিদ্যমান শুল্কের আওতায় থাকা কয়েকটি পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এবার অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন শুল্ক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিকৃত বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাকি ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। তবে চীন দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, নতুন শুল্ক সেই চুক্তিতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শুল্কসীমা অতিক্রম করবে না।
এদিকে নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কয়েকটি দেশ। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেছেন, তাঁদের দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। তাই নরওয়ের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নেই।
অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এই শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কানাডা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মওরা হিলি বলেছেন, নতুন শুল্কের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়বে, প্রতিযোগিতা কমবে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুল্ক আরোপের পূর্ববর্তী নজির থাকায় নতুন এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে