গোপালগঞ্জে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো সেই বিচারক প্রত্যাহার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালে এজলাসে বসে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়াকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে বিচারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্য ও গোপালগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য় আদালত) মো. সুজন মিয়াকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যেই তাঁকে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে, অভিযুক্ত বিচারকের প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে সাধারণ আইনজীবীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এসে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। এ সময় আইনজীবীরা বিচারকের বিরুদ্ধে নানাবিধ স্লোগান দেন এবং তাঁর অপসারণ দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালত চলাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিচারক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু সরাসরি এজলাসে একজন নারী আইনজীবীর ওপর চড়াও হওয়া এবং তাকে আঘাত করা স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধের শামিল। তাঁরা এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ শুনানিকালে কথা বলার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া একটি ভারী কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি সরাসরি শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় লাগলে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক জখম হয়। পরে উপস্থিত সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে