খেয়াল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চারদিকে বড় বড় গাছ। গাছগুলো বেশ লম্বা। নিচের ঝোপঝাড় গাছের অর্ধেক পর্যন্ত ঢেকে রেখেছে। এই কারনেই হয়তো জঙ্গল টা অনেক ঘন দেখাচ্ছে। জঙ্গলের মাঝে সরু পথটা শেষই হতে চায় না যেন। ঘন গাছ-গাছড়ার এরকম জঙ্গলি পথের ধরন দেখে যে কেউ বলে দেবে এই বনের গহীনতা অনেকটাই বাকি আছে এখনও।পিছনে ফেলে আসা হিংস্র পশুদের হুঙ্কার উৎসাহ দিচ্ছে আরও, আরও জোরে দৌড়ানোর।
পায়ের নিচে শুকনো পাতাগুলো মর মর শব্দ করে ভেঙ্গে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। হাঁটুর নিচের অংশটা ব্যথায় টনটন করছে। মনে হচ্ছে যে কোনো সময় পা দুটো মরিচা ধরা লোহার মতো ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়বে আর সাথে সাথে নিথর হয়ে যাবে শরীরটা। নিশ্বাস আগের চেয়ে ঘন আর দ্রুত পড়ছে। একটুখানি পানির জন্য মনটা আনচান করছে। নাহ,আর পারছি না। তবু ছুটতে হবে, ছুটতেই হবে।
ছোটবেলায় গান গাইতাম,"আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী, সাথি মোদের ফুলপরী"|| আহা, সত্যিই যদি পরী সাথি হতো এখন। ডানা লাগিয়ে উড়ে উড়ে যেতাম।
একি! সাঁ সাঁ করে বাতাসের বেগ বেড়ে গেল কেন?আর নিচে সবুজের এতো মেলা বসেছে কেন? মাটির স্পর্শ ঠিক ঠাওর হচ্ছে না। ওমা! আমি শূন্যে ভাসছি কেন? তবে কি এটা পাহাড়ি জঙ্গল ছিল? আনমনে দৌড়াতে গিয়ে পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়েছি......? না আ আ আ ...
বাম কাত হয়ে ঘুমাচ্ছিল নয়নতারা। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ধড়মড়িয়ে উঠল সে। বিছানা থেকে নেমে জানালার ধারে দাঁড়াল। বাইরে ভোরের আবছা আলো। পাখির কিচিরমিচির আর মোরগ ডাকার আওয়াজ, আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বাবা টিউবওয়েল থেকে পানি তুলছে। রান্নাঘর থেকে বাসন-কোসনের টুংটাং শব্দ। নয়নতারা তার দুই হাত মুঠো করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। দুঃস্বপ্নগুলো ইদানিং বারবার তাড়া করছে ওকে।
লেখক: উন্নয়ন কর্মী।
১৬২ বার পড়া হয়েছে