ইউপিডিএফ দমনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই, জনগণই ব্যবস্থা নেবে: কমান্ডার
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফকে দমন করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে না, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। রাঙামাটিতে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ইউপিডিএফের চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করেন। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা ও পাহাড়ের উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। রাঙামাটি রিজিয়নের উদ্যোগে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার সমালোচনার কড়া জবাব দেন রিজিয়ন কমান্ডার। তিনি বলেন, “ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার কাছে আমার প্রশ্ন—পাহাড়ের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের দুর্যোগে আপনারা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াননি কেন? প্রতি মাসে এই অঞ্চল থেকে আপনারা যে ১৫-২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেন, সেই টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় না করে কোথায় যায়?”
সেনাবাহিনীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভালোবাসে। পাহাড়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাহাড়ের জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য ইউপিডিএফের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের মানুষ অনেক সচেতন এবং তারা সবকিছু বোঝে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে আর জিম্মি করা যাবে না। সাধারণ মানুষই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপশক্তির উপযুক্ত জবাব দেবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহ আহম্মদ, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম। এছাড়াও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। টুর্নামেন্টে জেলার ১০টি উপজেলা থেকে মোট ১০টি দল অংশ নিচ্ছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে