কলাপাড়ায় গ্রাহকের ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: উত্তরা ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংক পিএলসি খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের হিসাব থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। স্থানীয় এক ঠিকাদারের দায়ের করা এই মামলায় প্রতারণা ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আনা হলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তরা ব্যাংকের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কলাপাড়া পৌরসভার ঠিকাদার গোলাম রাব্বি বাদী হয়ে কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উত্তরা ব্যাংকের খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ও বাউফল উপজেলার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী গোলাম রাব্বি উক্ত ব্যাংকের একজন নিয়মিত গ্রাহক। সম্প্রতি তার ব্যাংক হিসাবে ঠিকাদারি কাজের বিল বাবদ ৬ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা জমা হয়। টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে আসামিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি জরুরি চেকে তার স্বাক্ষর আদায় করে। পরবর্তীতে ব্যাংক ব্যবস্থাপক গোপন তথ্য পাচার করলে অপর আসামি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সমন্বয় করে তা অবৈধভাবে উত্তোলন করে নেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ করেন, অনুমতি ছাড়াই বিতর্কিত কাউন্টার চেকের মাধ্যমে তার হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সমঝোতার নামে তাকে ডেকে পুনরায় সাদা কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং ব্যাংকিং নিয়ম মেনেই যাবতীয় লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে