রামপাল বন্ধ করে সৌর বিদ্যুৎ চালুর দাবি: মোংলায় পদযাত্রী টনিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুৎ চালুর দাবিতে পাঁচ নদীর মোহনা থেকে উপকূলীয় পদযাত্রায় বের হয়েছেন মাসফিকুল হাসান টনি। ১৯ দিনব্যাপী এই দীর্ঘ অভিযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে তিনি মোংলায় এসে পৌঁছালে স্থানীয় বনজীবী ও পরিবেশকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বাগেরহাটের মোংলার কানাইনগর এলাকায় পশুর নদীর পাড়ে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার-এর যৌথ উদ্যোগে এই সংহতি সমাবেশ, মানববন্ধন ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরনির্ভরশীল কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুতের বদলে আগে থেকে সৌর বিদ্যুতে অর্থায়ন করা হলে আজ দেশজুড়ে চরম বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতো না। উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র খাবার পানির সংকট দূরীকরণ এবং জলবায়ু অভিযোজনে অর্থায়নকে এখন সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সংহতি সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পদযাত্রী কোস্টাল ট্রাভার্স মাসফিকুল হাসান টনি, স্থানীয় জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, ক্ষতিকর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে, তাই টেকসই ভবিষ্যতের জন্য এখনই পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরাপদ পানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে ‘ধরা’ ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ সহ ৩৭টি নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর থেকে এই ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ শুরু হয়। ১৯ দিনের এই দীর্ঘ পদযাত্রাটি সুন্দরবন অঞ্চল হয়ে মোংলা, পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, চরফ্যাশন ও নোয়াখালী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে সমাপ্ত হবে।
১৫০ বার পড়া হয়েছে