কুষ্টিয়ায় পুরোনো পোস্ট অফিসের জমি দখলের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের এ-ব্লকের একটি পুরোনো পোস্ট অফিসের ভবন ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও তদারকির অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ভবনটির বাউন্ডারি দেয়াল ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি নথি যাচাই করে সম্পত্তিটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এস্টেটের এ-ব্লকের এ-৪৬ নম্বর বাসায় অবস্থিত প্রায় ৫৮ বছরের পুরোনো পোস্ট অফিসের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, তদারকির অভাব ও সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সরকারি এই স্থাপনার বাউন্ডারি দেয়াল ও মূল ভবনের কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগের সময় থেকে ওই স্থানে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় ছয় দশক ধরে এলাকার ডাকসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা ভবনটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একপর্যায়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পোস্ট অফিসের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকার সুযোগ নিয়ে সানাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জায়গাটি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি হাউজিং এস্টেটের সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, একসময় ওই পোস্ট অফিসে নিজামুদ্দিন নামের একজন পোস্টমাস্টার কর্মরত ছিলেন। সানাউল ইসলাম তাঁর জামাতা। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি পোস্ট অফিসের জায়গায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সম্প্রতি তিনি সুযোগ বুঝে পোস্ট অফিসের বাউন্ডারি দেয়াল ও স্থাপনার কিছু অংশ ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁরা সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পোস্ট অফিসটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে পোস্টমাস্টার মোছাম্মৎ রহিমা বেগম বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। সেখানে বসে দাপ্তরিক কাজ করার মতো পরিবেশ নেই। এ কারণে বাধ্য হয়ে পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও সেটির জায়গা সরকারি সম্পত্তি। কোনো ব্যক্তি যেন এই সুযোগে জায়গাটি দখল করতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মালিকানা ও সরকারি নথিপত্রের বিষয়ে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার মো. সোহেল রানা বলেন, তাঁদের কাছে থাকা পুরোনো মূল নথি ও রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটির মালিক ডাক বিভাগ। অতীতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত নামে খাজনা দিয়ে থাকলে বিএস বা পরবর্তী রেকর্ডে ভুলক্রমে ব্যক্তির নাম উঠে আসতে পারে। তবে মূল রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি।
অভিযোগের বিষয়ে সানাউল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মেয়ে ফোন ধরে জানান, তাঁর বাবা বাসায় নেই। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সমাজসেবক ফরিদ আলী খান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে তাঁরা ওই স্থানে পোস্ট অফিস দেখে আসছেন। হঠাৎ পোস্ট অফিসের বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাওয়া উদ্বেগজনক। সরকারি এই সম্পত্তি কোনোভাবেই বেদখল হতে দেওয়া উচিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে পুরোনো ও বর্তমান রেকর্ড যাচাই করা। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ, ভাঙা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের মাধ্যমে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।
১২১ বার পড়া হয়েছে