গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মৌন মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মানববন্ধনে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকেরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাঁদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪, ২৪০(৩) ও সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার পরিবর্তে একটি বাস্তবসম্মত, শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা সমঝোতার ভিত্তিতে কর পরিশোধের পর প্রত্যেকের জন্য ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এ ধরনের সমঝোতা হলে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও একটি গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে আন্দোলন করে আসছেন। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা শ্রমিকদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও তাঁরা দাবি করেন।
সমাবেশে রিট পিটিশন নম্বর ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনগত পাওনা নিষ্পত্তির আগে করা এই রিট শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, রিটের আবেদনকারীদের একজন গ্রামীণফোনের শিল্প সম্পর্ক বিভাগের (আইআর) প্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মকর্তা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সম্ভাব্য ডব্লিউপিপিএফ/ডব্লিউডব্লিউএফ সুবিধাভোগী ও শেয়ারহোল্ডারও। রিটে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কারণে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তাঁর আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট তহবিলের সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে তাঁর অবস্থান এবং রিটে তাঁর ভূমিকার মধ্যে কোনো সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, তা আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সমাবেশে আশঙ্কা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, রিটের কারণে ডব্লিউপিপিএফ/ডব্লিউডব্লিউএফ-সংক্রান্ত অর্জিত অধিকার, ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ বা বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা এলে এর প্রভাব শুধু গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের অন্যান্য শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের আইনগত অধিকারও এতে প্রভাবিত হতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, সুরক্ষা, অংশগ্রহণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণীত। তাই শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
কর্মসূচি থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং রিট পিটিশন নম্বর ৮৪৬৪/২০২৬-এর সম্ভাব্য প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সংগত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
২২৪ বার পড়া হয়েছে