অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে চোটে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ দল, অপেক্ষায় বিসিবি
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ৬:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানের চোটে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চিকিৎসকদের সর্বশেষ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচক প্যানেল।
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতির মাঝেই বাংলাদেশ দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট। লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমান—এই চার ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এর প্রভাব পড়েছে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণাতেও।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, টেস্ট দলের সম্ভাব্য সদস্য লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ দল আগামী ১ ও ৩ আগস্ট দুই ধাপে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন লিটন দাস। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাংসপেশির চোটে পড়ার পর দীর্ঘদিন পুনর্বাসনে ছিলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে গেলেও ব্যথা ফিরে আসায় কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয়। সর্বশেষ তার নতুন করে স্ক্যান করানো হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে সফরে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন পেসার নাহিদ রানা। তার চোটের প্রকৃত অবস্থা জানতে স্ক্যানের অপেক্ষায় রয়েছে মেডিকেল বিভাগ। শরিফুল ইসলাম হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে সফর অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফেরেন। ইতোমধ্যে তিনি পুনর্বাসন শুরু করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান হাঁটুর চোটে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ছিটকে যান। তিনি বর্তমানে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে রয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ না থাকায় তাকে নিয়ে টেস্ট পরিকল্পনায় আলাদা উদ্বেগ নেই।
এদিকে, একাধিক ক্রিকেটারের চোটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট। তবে বিসিবির নির্বাচক ও চিকিৎসা বিভাগ দাবি করেছে, ক্রিকেটারদের কাজের চাপ পরিকল্পনা অনুযায়ীই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের মতে, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট থাকলেও খেলাধুলায় চোট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পেস বোলারদের ক্ষেত্রে চোটের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে এবং তা কমানোর চেষ্টা করা হলেও শতভাগ প্রতিরোধ করা যায় না।
বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরি জানান, একটি চোটের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জিম্বাবুয়ের ঠান্ডা আবহাওয়া, ঘাসযুক্ত উইকেট কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতিও চোটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিটি ক্রিকেটারের অবস্থা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এখন চিকিৎসকদের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ দল। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগে চোট কাটিয়ে মূল খেলোয়াড়রা ফিরতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
১২৯ বার পড়া হয়েছে