ফরিদপুরে স্বামীর স্বীকৃতি চাইতে এসে মারধরের শিকার অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভের সন্তান নষ্ট
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুরে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। কাতার প্রবাসী স্বামীর অধিকার চাইতে গিয়ে এই নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ২৮ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর নাম বিথী আক্তার। তিনি পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত কাতার প্রবাসী শাহিন শেখ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে প্রায় সাত মাস আগে বিথী আক্তারকে বিয়ে করেন শাহিন শেখ। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিজের সঙ্গে কাতারে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে তিন মাস আগে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন। পরবর্তীতে বিথী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শাহিন তাকে ফেলে রেখে কৌশলে নিজের গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান।
কোনো উপায় না পেয়ে গত ১০ জুলাই স্থানীয়দের সহায়তায় স্বামীর অধিকার আদায়ের দাবিতে ফরিদপুরের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন বিথী আক্তার। এরপরই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। অভিযোগ উঠেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেয় এবং একপর্যায়ে তার পেটে সজোরে লাথি মারেন অভিযুক্তের চাচা পাঞ্জু শেখ।
মারধরের কারণে গুরুতর আহত অবস্থায় বিথীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। এই নির্মম ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন শেখের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি পলাতক আছেন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে