ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী লালন মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. লালন মোল্লা (৫৪) ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একটি বহুতল ভবনের কেয়ারটেকার ছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমের (৪০) সঙ্গে লালন মোল্লার বিয়ে হয়। সাজেদা ছিলেন লালনের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই লালন তার মাদক সেবনের টাকার জন্য স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ইতিপূর্বে কয়েক দফায় বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিলেও সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে পুনরায় ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।
দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘুমন্ত সাজেদা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন লালন। এই ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লালনকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১২৬ বার পড়া হয়েছে