তদারকির অভাবে অচল ময়মনসিংহের সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে অপরাধের দাপট
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ নগরী ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অপরাধ দমনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগই এখন অচল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্যামেরাগুলো বিকল হয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে প্রায় ২২০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ময়মনসিংহের প্রবেশদ্বার ভালুকা, ত্রিশাল ও সদর উপজেলার প্রায় ৬৩ কিলোমিটার এলাকা এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়। তৎকালীন সময়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি মনিটরিং করা হতো, যার মাধ্যমে মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে।
মহাসড়কে এই উদ্যোগের বড় সাফল্যের পর ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাইপাস মোড়, মাসকান্দা, চরপাড়া, ব্রিজের মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার এবং টাউন হলের মতো জনাকীর্ণ স্থানে ক্যামেরা বসানো হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে নিয়মিত দেখভাল এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ ব্যবস্থাপনাই এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। মহাসড়কের বহু ক্যামেরার এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই।
সিসি ক্যামেরা অচল হওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ময়মনসিংহ শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। সম্প্রতি শহরের মিন্টু কলেজ রেলক্রসিং এলাকায় এক যুবকের পথ আটকে সর্বস্ব লুটে নেয় ছিনতাইকারীরা। এর ঠিক পরদিনই মাসকান্দা এলাকায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হন। এছাড়া গাঙ্গিনারপাড়ের একটি মোবাইল মার্কেট থেকে প্রায় কোটি টাকার মোবাইল ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে। ক্যামেরাগুলো সচল না থাকায় তদন্ত কাজে গতি আনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে জানায় পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কাঁচিঝুলি এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে এলাকা সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকে এবং পাহারাদার না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সবসময় উদ্বেগে থাকতে হয়। শুধু রাত নয়, দিনের আলোতেও এখন ময়মনসিংহ শহর নিরাপদ নয় বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। সিসি ক্যামেরাগুলো চালু থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া পুলিশের পক্ষে অনেক সহজ হতো।
এ বিষয়ে জেলা নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হলেও সঠিক তদারকির অভাবেই আজ এই বিপর্যয়। অপরাধ দমনে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৮৮টি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৩২টি এবং বাকি ৫৬টি সম্পূর্ণ বিকল। নিজস্ব তহবিল থেকে কিছু তদারকি করা হলেও বড় পরিসরে সংস্কার বা নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুত পুরো শহরকে আবারও নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে