সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ৮:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। রোববার ভোরে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্র রেখে গেছেন। বাদ জোহর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রোববার ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্ত্রী নূর আখতার, কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমির রেখে গেছেন।
পরিবার জানিয়েছে, বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির জানিয়েছেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন এবং সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন সুপরিচিত আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ ও দিনাজপুর-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আবদুস সাত্তার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে