ব্লাঙ্ক চেকের ফাঁদে সর্বস্বান্ত মা-ছেলে: ফুলপুরে কৃষি ঋণের নামে ভয়াবহ প্রতারণা
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৮:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে অসহায় মানুষকে কৃষি ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নিয়ে লাখ লাখ টাকার মামলা দিয়ে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে খলিলুর রহমান মণ্ডল নামের এক দালালের বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতির শিকার হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এক মা ও তার ছেলেসহ এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চলা এই চক্রের বিচার ও প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নেওয়াজ শরীফ ও তার মা নুরেছা বেগম। ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট সংসারের অভাব ঘোচাতে স্থানীয় খলিলুর রহমান মণ্ডলের সহায়তায় ফুলপুর কৃষি ব্যাংক থেকে যৌথ নামে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে খলিলকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে তিনি মা-ছেলের কাছ থেকে তিনটি খালি (ব্ল্যাঙ্ক) চেক হাতিয়ে নেন।
পরবর্তীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ওই খালি চেক ব্যবহার করে আদালতে মা-ছেলের বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করেন খলিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, যে তারিখে খলিলের বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময়ে নেওয়াজ শরীফ কর্মস্থল ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এই মিথ্যা মামলার পর থেকে আতঙ্কে বাড়িছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে জরাজীর্ণ ঘরে বাস করা দরিদ্র এই পরিবারের।
খলিলুর রহমানের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের শিকার কেবল এই মা-ছেলে নন। একই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুল খালেক ফকির নামে আরেক কৃষকও তার রোষানলে পড়েছেন। ২০২৪ সালে ব্যাংক থেকে সিসি লোন পরিশোধ করার পর, তার বিরুদ্ধেও ২৭ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা ঠুকে দিয়েছেন খলিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কৃষি ব্যাংকের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া বহিরাগত এই দালালের হাতে গ্রাহকদের চেক পৌঁছানো অসম্ভব।
স্থানীয় বওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব আলম ডালিম খলিলকে একজন পেশাদার দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, গ্রামের অসহায় ও নিরক্ষর মানুষদের ফাঁদে ফেলে ব্লাঙ্ক চেক হাতিয়ে নেওয়া এবং পরে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মামলা করা খলিলের নিয়মিত ব্যবসা। এ বিষয়ে মামলার সাক্ষী জনাব আলীও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাকে না জানিয়েই মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযুক্ত খলিলুর রহমান মণ্ডল অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই আদালতে মামলা করেছেন এবং চেকগুলো তিনি ব্যাংক থেকে নেননি। এদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ময়মনসিংহ কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ জানিয়েছেন, কৃষি ঋণে কোনো ধরনের চেক জমা রাখার নিয়ম নেই। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের চেক বাইরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১২ বার পড়া হয়েছে